বাঙ্গালীর নুনের ব্যবসা

বিভিন্ন প্রাচীন মানব গোষ্টী যে সমস্ত ব্যবসা গড়ে তুলেছিল তার মধ্যে নুনের ব্যবসা অন্যতম। বাংলায় নুনের কারবারের ইতিহাস বহু পুরনো।

সংস্কৃত ‘লবণ’ থেকে বাংলায় নুন বা লুন শব্দটি এসেছে। ফারসিতে এটা ‘নমক’। পরে উর্দু ও বাংলায় তা হয়েছে নিমক বা নেমক।

দুই বাংলার সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন স্থানে লবনাক্ত জল ফুটিয়ে লবন উৎপাদন করা হতো। এখনো দক্ষিণ বঙ্গের গরিব মানুষ জন লবনাক্ত জল ফুটিয়ে লবন প্রস্তুত করে।

ভারতীয় উপমহাদেশে এককালে লকবণ খাওয়া নিরুৎসাহিত করতে শাস্ত্রও রচিত হয়েছিল। বিশেষত ছাত্র, পুত্রবধূ ও বিধবারা লবণ খেতে পারতেন না। আবার শাস্ত্রের বিধান মেনে যার বাড়িতে লবণ খাওয়া যেতো, তাকে বলা হতো ‘কৌদ্রাবিক’।

এক সময় হিন্দুরা সব বাড়িতে লবণ খেতে পারতো না। একান্ত খেতে হলে নিজেকেই লবণ নিতে হতো। 

আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত হবার কারণে সেই আদি কাল থেকে রাজা-মহারাজাদের নজর ছিল ছিল লবণের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের দিকে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও বিধান দেয়া হয়েছে : ‘লবণের উপর একমাত্র অধিকার রাজার।’

এক সময় ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু রাজারা লবণের উপর ৬ প্রকার কর ধার্য করতেন বলে জানা যায়। পরে মুসলিম শাসকরাও একই পথ ধরেন।

সমুদ্রের তীরে লবণের গর্তগুলোকে তখন বলা হতো ‘লবণাকর’। পরে মুসলিম শাসনামলে এগুলোর নাম হয়ে যায় ‘নিমকমহল’।

ব্রিটিশ আমলে বাঙ্গালীদের নুনের ব্যবসা অন্য মাত্রা লাভ করেছিল। নৌকা ভর্তি করে নুন আমদানি করা হতো। বসিরহাট একসময় নুনের ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।

পুরনো কলকাতার অনেক পরিবার নুন এর ব্যবসা করে বড় বড় জমিদারির মালিক হয়েছেন। অঢেল পয়সা কামিয়েছেন, প্রাসাদোপম অট্টালিকা বানিয়েছেন। এখনো তাদের নুনের ব্যবসা থেকে পয়সা করার গল্পঃ লোকমুখে শোনা যায়।

Leave a Reply